পরবের মেলা…………………!!!!!!

  পরবের মেলা.....................!!!!!!

নরসিংদী জেলার ত্রক অখ্যাত গ্রামে জন্ম আমার।গ্রামের নামটা অনেক সুন্দর ‘বাঙ্গালীনগর’।
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী নাম বলা যেতে পারে।কবির ভাষায় ছবির মতো সুন্দর না হলেও ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড় বলা যায়। আমাদের গ্রামের ত্রকটাই অপূর্ণতা ছিল তা হল গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কোন নদী নেই।গ্রামের ত্রকপাশে ত্রক বিশাল খেলার মাঠ ছির।ত্রই মাঠে তখন জেলা পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হত।প্রতি পহেলা বৈশাখে ত্রখানে মেলা বসত।মেলার আয়োজন ছিল খুবই সাদামাটা, হয়তো ত্রকটা ছামিয়ানা টানানো হত, কয়েকটা মাইক লাগানো গত, মাঠ জোরে দোকানীরা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে বসত।বেশীরভাগই ছিল মাটির তৈরী ঠুলি,পুতুল,হাতি ঘোড়া ইত্যাদি।
খুবছোট বেলার কথা বলছি।তখন ত্রই মেলাকে আমরা বলতাম পরবের মেলা। মেলার অনেক
দিন আগে থেকেই দিন গুনতাম কবে শুরু হবে মেলা।
মেলার দিনটি ছিল খুবই উত্তেজনার।সকাল থেকে অপেক্ষা কখন বিকাল হবে!!দুপুরে খাওয়ার
পরে মা’র চারপাশে ঘুরাঘোরি করতাম আর ত্রকটু পর পর বলতাম,মা ত্রখন যাই? মা বলতেন ত্রখনও বাইরে অনেক রোদ, আর ত্রকটু পরে যা। যাওয়ার সময় মা দশটা টাকা দিতেন আমার হাতে [মনে পরলে ত্রখন হাসি পায়, দশ টাকার জন্য মাকে আগে থেকে বলে
রাখতাম।তবুওতো আমি চাইলে দশ টাকা পেতাম অনেক ছিল তাও পেত না। তারা মেলার অনেক আগে থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করত। কেউ বিল থেকে মাছ ধরে বিক্রি করত,কেউ বাশের ঝাড় থেকে লাকড়ি জমিয়ে বিক্রি করত,কেউবা গত বছরের মেলা থেকে কিনে আনা
প্রিয় মাটির ব্যাংকটি ভেঙ্গে টাকা নিয়ে মেলায় যেত।]
আমরা দলবেধে মেলায় যেতাম। কি মজাটাই না হত তখন!!!!

ত্রখন আর আগের মতো মেলায় যাওয়া হয়না। পহেলা বৈশাখে হয়তো বন্ধুদের কাছে ফোন
করে খবর নেই কোথায় কনসার্ট আছে,কোথায় ভাল শিল্পী আসবে। হয়তো মেলায় যাই কিন্তু ত্রখন আর আগের মতো আকর্ষন বোধ করি না।
ত্রখন হয়তো চাইলেই বাবার কাছথেকে পাচশ টাকা পাই কিন্তু কসম, ছোটবেলায় দশ টাকা
পেয়ে যে পরিমাণ খুশি হতাম ত্রখন ত্রর সিকি পরিমানও হয়না ।

ত্র জীবনে হয়তো আর দশটা টাকার জন্যে মায়ের কাছে খুনসুটি করবা না
টাকা পেয়ে দৌড়ে মেলায় যাব না।
হয়তো মেলায় গিয়ে ত্রটাসেটা কিনে বা ডিমের লটারিতে সব টাকা হেরে আফসুস করতে
করতে বাড়ী ফিরব না !!!!!
তাতে কি জীবন তো আর থেমে নেই…………………………।।।।।

মিস ইউ পরবের মেলা……..
মিস ইউ মাই চাইল্ডহুড………..

Advertisements

হালার পড়ালেহা কইরা যুইত নাই

আমাদের ব্যাচটাই ত্রকটা অলক্ষী ব্যাচ । ত্রকের পর ত্রক ত্ররকম ধারাবাহিক সমস্যা মনে হয় আর কোন ব্যাচকে ফেইস করতে হয়নি। যখন নাইন-টেনে পড়ি তখন সরকার ত্রক থিওরি আনলেন সৃজনশীল থিওরি। থিওরি পরীক্ষা করার জন্য গিনিপিগ দরকার। আমাদের বানানো হল গিনিপিগ, বলা হল আগামী পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে দিতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা

কিছু বুঝার আগেই অভিবাভকেরা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তারা বলতে লাগলেন ত্রসব সৃজন টিজন দিয়া কিছু হবে না।সৃজন করার জন্য বহু বিজ্ঞানী,চিন্তাবিদ আছে তারা সৃজন করবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা শুধু মুখস্থ করবে। ত্ররপর আন্দোলন হল, সরকার সৃজনের মাত্রা কমিয়ে দুই বিষয়ে আনলেন।বাংলা ত্রবং ধর্ম। বুঝলাম বাংলা সাহিত্য, সৃজন করার মতো কিছু আছে কিন্তু ধর্মের মধ্যে সৃজনশীলতার কি আছে আমি ত্রখনও বুঝি নাই।

 

কলেজে ভর্তি হলাম। ত্রইচ ত্রস সি পরীক্ষার সময় আরেক ক্যাচাল। পরীক্ষার রুটিন বের হল

রুটিন দেইখা মনে হল ফাতেমা খাতুনের খুব তাড়া ত্রই জন্য তিনি ২৮দিনে পরীক্ষা শেষ করতে চান।আন্দোলন করলাম, ফাতেমা খাতুনের দয়া হল রুটিন পরির্বতন করলেন। আগের

রুটিনে গনিত পরীক্ষার আগে বন্ধ ছিল মাত্র ত্রকদিন আর পরিবর্তন করে দেওয়া হল ১৭দিন!!! ১মপত্র পরীক্ষা দেওয়ার পর ভুলেই গেলাম যে আরেকটা পরীক্ষা আছে ।

 

পরীক্ষা দিলাম । ভর্তি কোচিং করছি, তখন আরেক সমস্যা।

 

বহুদিন আগে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন “ছাত্র জীবন সুখের হত যদি না থাকত পরীক্ষা”

অনেকদিন পরে হলেও আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ব্যাপারটি বুঝতে পারে ।তারা ছাত্র-ছাত্রীদের

সুখের কথা চিন্তা করে ঘোষনা দিলেন মেডিকেলে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিতে হবে না!!!!!

শুধু আয়রন, গোল্ডেন, সিলভার পেলেই ভর্তি হওয়া যাবে। বাহ কত ভাল সিদ্ধান্ত !!

সবার খুশি হওয়ার কতা কিন্তু উল্টটা ঘটল।

রবীন্দ্রনাথের উক্তির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্ররা আন্দোলনে নেমে পড়লেন। ত্রক দফা ত্রক

দাবি “পরীক্ষা চাই, দিতে হবে”……………….অবশ্য ত্রতে আমার কোন সমস্যা ছিল না কারন ডাক্তার(বর্তমান প্রেক্ষাপটে কসাই) হওয়ার কোন ইচ্ছায় আমার কোন কালে ছিলনা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ত্রখন সেশনজটে পড়ার সমূহ সম্বাবনা। ম্যাডাম প্রতিদিন হুমকি

দিচ্ছেন হরতাল দিয়ে দেশ অচল করে দিবেন।

আপা বলছেন হুমকি ধুমকি আর হরতালে কোন লাভ হবে না……..

”দেশ অচল হউক আর না হক ত্রকের পর ত্রক হরতালে আমাদের ছাত্রজীবন কিন্তু অচল হয়েই যাচ্ছে।”

 

[কুবের মাঝির মতো বলতে ইচ্ছা করে….< হালার পড়ালেহা কইরা যুইত নাই>]