মধ্যবিত্তের ঈদ !!

মধ্যবিত্তের জন্য ঈদ ব্যাপারটা সবসময় সুখকর হয় না ।গ্রামে থাকতে একটা কথা প্রতি ঈদের আগেই শুনতাম ‘ঈদ আসে না জম আসে’ । ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এর সাথে টাকা পয়সার ব্যাপারটাও জড়িত । নতুন জামা, ঈদের দিন উপলক্ষ্যে ভালো কিছু রান্না করা, পিঠা পুলি, মেহমান সবকিছূ মিলিয়ে মোটামুটি একটা খরচের বাজেট করতে হয় । আর সেই কারনেই যাদের দিন আনে দিন খাই অথবা নুন আনতে পান্থা ফুরায় অবস্থা তাদের মনে হতাশা, ক্ষোভ, অপমানের জন্ম নেয় । বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য প্রনান্ত চেষ্টা করতে হয় ।

ঈদের সাথে নতুন জামার সম্পর্কটা কিভাবে এসছে জানি না । তবে এখন ঈদ মানেই হলো নতুন জামা-কাপড় কিনতে হবে । যাদের প্রচুর টাকা আছে তাদের জন্য ব্যাপরটা কিছুই না বরং আনন্দের । একসাথে পরিবারের সবাই শপিং করবে এর চাইতে খুশির আর কি হতে পারে ! কিন্তু ঠিক এই ব্যাপারটাই কারো কারো জন্যে অনেক দু:খের । যেখানে পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম বাবার সামন্য ইনকামে কোনমতে সংসার চলে সেখানে একসাথে সবার জন্য কেনাকাটা করা কষ্টকর । আবার সমাজে মোটামুটি সম্মানিত কেউ হলে না করে উপায় থাকে না কারন বন্ধু-বান্ধব সবার নতুন জামা থাকবে শুধু তার ছেলেমেয়ের থাকবে না, এটা কোন বাবা-মা ই চাই না ।

বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত এমন একটা অবস্থা যেখানে পরিবারের সবাই একসাথে খুশি হতে পারে না । সবকিছুতেই তাদের ভাগাভাগি করে নিতে হয়, এমনকি সুখ দুঃখও । ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে নতুন জামা কিনে দেয়া পরিবারের কর্তার পক্ষে সবসময় সম্ভব হয়না । হয়তো দেখা গেছে ছেলেমেয়েদের জন্য কিনতে গিয়ে নিজেদেরটা আর কেনা গেলো না । ‘তোদের খুশিতেই আমাদের খুশি’ এটা বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত মায়েদের কমন উক্তি । মা হয়তো তার পুরনো শাড়িটি পরে সারাদিন রান্না ঘরেই কাটিয়ে দিবেন আর বাবা তার পুরনো পান্জাবিটা বের করে নামাজ পড়তে যাবেন । তারপরও তারা খুশি ছেলেমেয়েকে নতুন জামা কিনে দিতে পেরেছে । অনেকে এটাও পারে না । পরিবারের ছোট সন্তানটিকে হয়তো এই ঈদে কিনে দিয়েছে, বড় সন্তানটিকে আশা দিয়েছে আগামী ঈদে কিনে দেবে ।

নিম্নবিত্তের জন্য ঈদ আরো কষ্টের । তাদের কাছে ঈদ মানে ছেলেমেয়েদের দুঃখি চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকার দিন, ঈদ মানে সন্তানদের মিথ্যা সান্তনা দেয়ার দিন ।

ঈদের সেমাই কেনার পর দুধ কেনার টাকা থাকে না এমন পরিবারের সংখ্যাও কম নয় । সবার বাড়িতে যখন ঈদের দিন ভালো ভালো রান্না করা তখন প্রতিদিনকার মতো ডাল-ভাত খেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এমন পরিবারও অসংখ্য । সমাজের অবস্থাবানরা কবে যাকাতের একটা কাপড় দিবে সেই আশায় বসে থাকা মানুষের সংখ্যা কম নয় ।

ঈদ হোক সার্বজনীন ।

বাঙ্গালি ফেইসবুকারদের ধর্মকর্ম ।

ধর্মকর্ম দিনদিন ফেইসবুক নির্ভর হয়ে যাচ্ছে । ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে কমেন্ট আমিন, ছুম্মা আমিন বলার মধেই অনেকে খুজে বেড়াচ্ছেন ধর্মকে । এটা দোষের কিছু নয় । ফেইসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই প্রতিচ্ছবি । কিন্তু খটকা লাগে তখন যখন কেউ বাস্তব জীবনে এসবের ধার না ধেরে ফেইসবুকে বড় বড় কথা বলে ।

ছেলেরা হাদীস শেয়ার দেয়, ওয়াজের ভিডিও আপলোড দেয়, মেয়েদের ফটোতে গিয়ে পর্দা করার জন্য কমেন্ট করে । অথচ গার্লফ্রেন্ডের ফোন আসলে উনি ফেইসবুকে লগ আউট দিয়ে উঠে যান ডেট করতে । গার্লফ্রেন্ডকে আর পর্দার কথা বলে না বরং ঠোটের গাঢ় লিপিস্টিকের প্রশাংসা করেন । উনার ধর্ম জ্ঞান ফেইসবুকের মতোই লগ আউট দিয়ে রেখে যান ঘরের মধ্যে ।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন কমেন্ট করা, লাস্ট নাইটে দেখা সানি লিওনের মুভিটা নিয়ে আলোচনা করেন……সাথে বিড়িতো চলতেই আছে মাঝে মধ্যে লাল নীল পানিও খাওয়া হয়…………তারপর রাতের বেলা ফেইসবুকে ঢুকে দুই তিনটা হাদীস শেয়ার দিয়ে ঘুমাতে যান ।

মেয়েরা বিভিন্ন ধর্মীয় পিক শেয়ার দেয়, হাদীস লেখা পিক কভার ফটো দেয় । বিভিন্ন ইসলামিক পেইজের পোস্টে আমিন. ইনশাল্লাহ, ছুম্মা আমিন কমেন্ট করেন ।
একই কাহিনী মেয়েদের ক্ষেত্রেও, ফেইসবুকের প্রেফাইল ঘাটলে মনে হবে মেয়েটা কতো ইসলামিক মাইন্ডের, সারাদিন ধর্মকর্ম করে । কিন্তু বাস্তব জীবনে ! আছর থেকে এশা পর্যন্ত কাটে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ডেটিংয়ে, সারা রাত বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং আর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুমে ।

যার যার জীবনে তার খুশি মতো লিড করবো । এতে অন্যের কিছু বলার নাই । একটা ছেলে বা মেয়ে সারাদিন সারারাত কি করলো এটা আমার চিন্তার বিষয় না, এটা নিয়ে প্রশ্ন করবারও অধিকার নাই আমার । কিন্তু কথা উঠে তখনই যখন দেখি যে মেয়েটি বা ছেলেটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের । সে বলছে একটা, ভাব ধরছে একটার আর নিজের জীবনে করছে আরেকটা ।

ভাইভার মায়রে বাপ সেভেন আপ !

ভাইভার মায়রে বাপ সেভেন আপ !!

ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা অথবা সুন্দর ইংলিশে যেটাকে বলা হয় ওরাল এক্সাম । মৌখিক বা ওরাল এক্সাম হলেও এটা শুধু মুখের পরীক্ষা না …এটা পুরো শরীরের পরীক্ষা । পায়ের জুতা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত ঠিকঠাক করে যেতে হয়
ফরমাল ড্রেস জিনিসটারে একেবারে পচায়ে ফেলছে ডেসটেনি কম্পানি । লুকিং ডেসটেনি এজেন্ট এখন কমন কমেন্ট হয়ে গেছে এই ড্রেসের ক্ষেত্রে ।

# সকালে ক্যাম্পাসে ঢুকে দেখি এক বন্ধু রাস্তায় দাড়িয়ে আছে একা একা, আশেপাশের কেউ নাই । মানুষ আসছে যাচ্ছে কিন্তু বন্ধু আমার নড়ে না !! কাছে গেলাম । বললাম ’তোরে তো হেব্বি লাগতাসে মাম্মা’ । চল উপরে যাই । বন্ধু বলল ‘সমস্যা আছে !!
-কি সমস্যা ??
-জুতার নিচের অংশ খুলে গেছে !
এবার বুঝলাম দাড়িয়ে থাকার রহস্য ।

# এক বন্ধু জিন্স পড়ে আসছে । তার সিরিয়াল যখন আসল তখন আরেক বন্ধুকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকল । আগে থেকেই ব্যাগে করে লুঙ্গি নিয়ে আসছিল সে । তো যাকে নিয়ে ঢুকছিল বাথরুমে তাকে লুঙ্গি পরিয়ে তার ফরমাল পড়ে সে চলে গেল ভাইভা দিতে । লুঙ্গি পড়া বন্ধু পরল বিপদে না পারছে বাইরে আসতে না পারছে কিছু করতে ………….

ভাইভাতে ভালো করার গোপন টিপস হলো প্যান্টের নিচে আন্ডারওয়ার, জুতার ভিতর মুজা, শার্টের নিচে সেন্টুগেন্জি না পড়া ।
বন্ধু মিজান এই পদ্ধতি প্রয়োগ করছে, মাশাল্লাহ……. তার পরীক্ষা ভালো হইসে ।

ভাইভা বোর্ড !!

– স্লামালিকুম স্যার । আসবো ?
– হ্যা আসো । কি নাম ?
– স্যার …………………
– রোজা ? দেখেতো মনে হয়না, পেট এতো ফুলা কেন !!!
– ভোরের সেহেরিটা হেব্বি হইসে স্যার । পেটে গ্যাস হয়ে গেছে ! !
– চোখ লাল ! চোখের নিচে কালি, কি করো সারা রাত ?
– পড়ি
– পড়াতো যায় প্যান্ট শার্ট থেকে শুরু করে অনেক কিছু …তুমি কি পড়ো ?
– স্যার ফেইসবুক ।
– কোর্সের সাবজেক্টগুলোর সাথে যোগাযোগ আছে ?
– স্যার মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাত হয় ।
– আচ্ছা কম্পিউটারের কয়েকটা এপ্লিকেশান বলো ? কি কি কাজে ব্যবহৃত হয় ?
– স্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ব্যবহার আছে যেমন ফেইসবুক ! কম্পিউটারের মাধ্যমে ফেইসবুক চালিয়ে আমরা বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং, শেয়ারিং, পোকিং সব কিছু করতে পারি । তারপর আছে ইউটিউব ……………
– গাধা ! ! !
– আচ্ছা IC কি ? এটা বলতে কি বুঝায় ?? এটা কোথাই ব্যবহৃত হয় ?
– স্যার IC হলো i see এর সংক্ষিপ্ত রুপ । এটা চ্যাট করার সময় বহুল ব্যবহৃত ওয়ার্ড ।
– স্টুপিড !!!!! IC হলো Integreted Circuit .
– সরি স্যার ।
– দুইজন লোক যদি ঘন্টায় ২০ জন লোকের সাথে এবং পরস্পরের সাথে হ্যান্ডশেক করে তাহলে মোট কয়টা হ্যান্ডশেক হবে ? হ্যান্ডশেকিং থিওরির সাহায্যে বলো ….
– স্যার লোক দুইটা নিশ্চয়ই পলিটিক্যাল ভাই !! !!
– মোট হ্যান্ডশেক কয়টা হবে ?
– ইয়ে …মানে …স্যার….

– জাভা সম্পর্কে কিছু বলো ….
– স্যার জাভা হলো ইন্দোনেশিয়ার একটা দ্বীপের নাম । এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম দ্বীপ । ইন্দোনেশিয়ার মোটা জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এই দ্বীপে বসবাস করে ……
– গেট লস্ট ।
– ইয়েস স্যার ।